নাম বাহাদুর, মালিকের নির্দেশেই চলাফেরা

নাম তার বাহাদুর। শান্ত প্রকৃতির। মালিকের নির্দেশে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,পা উঠায়। যেন রিমোট নিয়ন্ত্রিত। স্বাভাবিক খাবারেই বেড়ে উঠেছে। তবে ফ্যানের বাতাস ছাড়া ঘু'মাতে পারেনা। গোসলে লাগে সাবান-শ্যাম্পু। কিশোরগঞ্জের কোরবানির বাজারে সবার নজর এখন কৃষক আব্দুল বারিকের হাজার কেজি ওজনের বাহাদুরের দিকে। দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের মানুষ।

সাড়ে তিন বছর আগে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজে'লার আমলীতলা বাদে শ্রীরামপুর গ্রামে আব্দুল বারিকের খামা'রে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভীর পেটে জন্ম নেয় ব্রাহা'মা জাতের এই ষাঁড়টি। নাম রাখা হয় ‘বাহাদুর’। খামা'রে তাকে ঘিরে সারাক্ষণ চালু রাখতে হয় বৈদ্যুতিক ফ্যান। নিয়ম করে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল দিতে হয় দু’বেলা। ঘাস, কুড়া, খৈল, ভূষিসহ স্বাভাবিক খাবারই প্রিয় বাহাদুরের। বারিকের পরম মমতায় বেড়ে উঠছে বাহাদুর। পরিবারের সবাই তার যেন বন্ধু।

কৃষক আব্দুল করিমের স্ত্রী বলেন, গরুটা আমা'র সন্তানের মতো। টাকা পয়সার দরকার তাই বিক্রি করে দিচ্ছি।
আব্দুল বারিকের সাথে বাহাদুরের গড়ে উঠেছে দারুণ সখ্যতা। বারিকের কথামতো আচরণ করে বাহাদুর। নির্দেশ পেলেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়, পা-তুলে দেখায়। যেন রিমোট চালিত।

বাহাদুরের ওজন দাঁড়িয়েছে হাজার কেজিতে। কুরবানির ঈদ সামনে,তাই কদর বেড়েছে বাহাদুরের। বিশাল উচ্চতা ও ওজনের কারণে বাহাদুরের নাম ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখতে আসছেন অনেকে। কেনার আগ্রহ দেখিয়ে করছেন দরদামও।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় উন্নত প্রজাতির দেশি ষাঁড় বাহাদুরকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করে কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জ উপজে'লা প্রাণিসম্পদ কর্মক'র্তা স্বপন চন্দ্র বনিক বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এই গরুটা মোটাতাজা করা হয়েছে। আমি আশা করছি, এই ঈদে তিনি ন্যায্যমূল্য পাবেন।

বাহাদুরের দৈর্ঘ্য ৮ ফুট ৪ ইঞ্চি, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, আর বুকের বেড় প্রায় আট' ফুট। তার দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। তবে বিক্রির জন্য হাটে তোলা হবে না।

Facebook Comments

Related Articles

Back to top button