রায়ে সন্তুষ্ট দিয়ার বাবা, অসন্তুষ্ট আ'সামিপক্ষের আইনজীবীরা!

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শ’হীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নি'হতের ঘটনায় করা মা'মলায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালকসহ তিনজনের যাব'জ্জীবন কারা'দ'ণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আ'দালত।

রোববার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমর'ুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। যাব'জ্জীবন কারা'দ'ণ্ডের পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারা'দ'ণ্ডের আদেশ দেন আ'দালত। যাব'জ্জীবনপ্রা'প্ত আ'সামিরা হলেন- দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী কাজী আসাদ (পলাতক)।

রায় ঘোষণার পরে দিয়া খানম মিমের বাবা জাহা''ঙ্গীর আলম কালু বলেন, আমিও তো ড্রাইভার। ১৭ বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছি। আমা'র দ্বারা তো কখনো দু'র্ঘটনা ঘটেনি। জাবালে নূরের দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন ছিলেন অদক্ষ ড্রাইভার। তারা ড্রাইভার নামে কলঙ্ক। তাদের সাজা পাওয়া উচিত ছিল। আ'দালত তাদের যাব'জ্জীবন দেয়ায় আমি ও আমা'র পরিবার অনেক খুশি।

তিনি আরও বলেন, চালকের অদক্ষতার কারণে আজ আমি সন্তানহারা। রাস্তায় রাস্তায় কান্না করে ঘুরছি। কোনো মালিক যেন কখনো অদক্ষ ড্রাইভারদের গাড়ি চালাতে না দেন। মালিকদের প্রতি আমা'র অনুরোধ রইলো। আজ আমি আ'দালতের রায়ে অনেক খুশি।

তবে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আ'সামিপক্ষের আইনজীবীরা। একই স''ঙ্গে তারা উচ্চ আ'দালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় যাব'জ্জীবন দ'ণ্ডপ্রা'প্ত বাসচালক মাসুম বিল্লাহর আইনজীবী হাসিম উদ্দিন বলেন, রায়ে আমর'া অবশ্যই অসন্তুষ্ট। ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাদের সন্তুষ্ট করতে আ'দালত এ রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো চাক্ষুস সাক্ষী পাওয়া যায়নি। শুধু আ'সামিদের ১৬৪ ধা'রায় জবানব'ন্দির প্রেক্ষিতে এ রায় দেয়া হয়েছে। রায়ের কাগজ পেলে বি'ষয়গু'লো বুঝতে পারব। আমর'া উচ্চ আ'দালতে যাব', আশা করছি উচ্চ আ'দালতে গেলে আমর'া ন্যায়বিচার পাব। দু'র্ঘটনাস্থলের কাছেই বাসস্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও ফ্লাইওভারের গোড়ায় ছাত্ররা জোর করে বাস থামাত। সেদিনও সম্ভবত এমন কিছু ঘটেছিল, যেখানে বাসের চালক কোনোভাবেই দায়ী নয়।

যাব'জ্জীবন দ'ণ্ডপ্রা'প্ত আরেক বাসচালক জুবায়ের সুমনের আইনজীবী টি এম আসাদুল হক বলেন, আমর'া ন্যায়বিচার পাইনি, অবশ্যই আমর'া উচ্চ আ'দালতে যাব'। সাক্ষ্যপ্রমাণে বলা হয়েছে, আমা'র মক্কেল জুবায়ের সুমনের গাড়িটি চলমান ছিল। পেছন থেকে অন্য একটি গাড়ি তার গাড়িটি ধাক্কা দেয়। তার গাড়ি দ্বারা কোনো 'হতা'হতের ঘটনা হয়নি। আ'সামিকে যাব'জ্জীবন দিতে হলে মৃ'ত্যুর কারণ প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু সুমনের গাড়ি দ্বারা কোনো হ'ত্যাকাণ্ড ঘটেনি।