করোনায় স্কুল বন্ধ, চা বিক্রি করছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সাকিব

‘হায়রে করো’না, তুই স্কুল পড়ুয়া শিশুটিকে বানালে চা বিক্রেতা’। আ'ক্ষেপ করে কথাটি বললেন একটি কেজি স্কুলের শিক্ষক শাহীন আহমেদ। চা বিক্রেতা শিশুটির নাম সাকিব। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নিজগাও গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন সাকিবের পিতা চা-পানের টং দোকানদার সালাউদ্দিন। সাকিবের মা সোহাগী বেগম গৃহিনী। কথা প্রস'ঙ্গে সাকিব জানায় তাদের গ্রামের বাড়ি কুলাউড়া উপজে'লার বরমচাল গ্রামে।

সাকিব শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার পূর্ববড়চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। করো’নাভাইরাসের কারণে গত মা'র্চ মাস থেকে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। তারপর থেকে শিশু সাকিবের পড়ালেখাও বন্ধ। এখন ছেলেটি বাবার টং দোকানে বসে চা বিক্রি করে।

পিতার দোকান দাউদনগর রেলগেইট সংল'গ্ন মুক্তিযো'দ্ধা কার্যালয়ের সামনে। সেখানে জনসমাগম কম থাকায় চা বিক্রিও তেমন হয়নি। তাই সাকিব একটি ফ্লাক্স আর কিছু ওয়ানটাইম কাপ নিয়ে বেরিয়েপড়ে হাটে বাজারে।

‘চা খাবেন চা’। এই ডাকে এখন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে চায়ের ফ্লাক্স নিয়ে হাজির হয় সাকিব। ছেলেটিকে দেখেই অনেকের মায়া লাগে। তাই চা না খেতে চাইলেও সাকিবের চা খেয়ে তাকে ৫টি টাকা দিচ্ছেন অনেকেই।

এইভাবে সারাদিনে ৯০ কাপ চা বিক্রি করে ঘরে ফিরে সাকিব। প্রতি কাপ চায়ের দাম ৫ টাকা। এই হিসেবে ৪৫০ টাকা বিক্রি আসে চা থেকে। সাকিব সারাদিন হাটে বাজারে চা বিক্রি করে সন্ধ্যা আর পড়ালেখা করতে পারেনি। ক্লান্ত শরীরে ঘু'মিয়ে পড়ে।

সাকিবের পিতা সালাউদ্দিন বলেন, করো’নার আগে স্কুল খোলা থাকায় সাকিব স্কুল ফাঁ'কি দেয়নি। পড়ালেখায় আগ্রহ রয়েছে ঠিকই, তবে করো’নার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় বাসায় পড়ালেখা করতে অনিহা।

শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমী এন্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহা'ম্ম'দ নুরুল হক বলেন, করো’না পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষ'তিগ্রস্ত। এর উদাহরণ চা বিক্রেতা সাকিব।

Facebook Comments

Related Articles

Back to top button