একসঙ্গে ১২ জনের জানাজা, চারপাশে শুধু কান্নার শব্দ

নেত্রকোনার ম'দন উপজে'লার উচিতপুর হাওড়ে নৌকাডুবিতে নি'হতদের দা'ফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সোয়া ৬টায় ময়মনসিংহ সদর উপজে'লার কোণাপাড়া ঈদগাহ মাঠে ওই গ্রামের ১২ জনের জানাজা একস'ঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মর'দে'হ দা'ফন করা হয়। নি'হতদের মধ্যে ১৫ জনই ময়মনসিংহ সদর উপজে'লার বাসিন্দা। বাকি দুজনের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে।

একই পরিবারের সাতজনকে একস'ঙ্গে পারিবারিক কবরস্থানে দা'ফন করা হয়েছে। পরিবারের অ'ভিভাবক মা'দরাসায়ে মা'রকাজুস সুন্নাহর মু'হতামিম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমানকে মা'দরাসা প্রা'ঙ্গণে দা'ফন করা হয়েছে। এছাড়া নি'হত অন্যদের পারিবারিক কবরস্থানে দা'ফন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় গৌরীপুরের নি'হত দুজনকে দা'ফন করা হয়েছে।

এর আগে নি'হতদের মর'দে'হ বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মা'দরাসা প্রা'ঙ্গণে আনা হয়। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। চারদিকে শুধু কান্নার শব্দ শোনা যায়। নি'হতদের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী ওঠে পরিবেশ।

নি'হতরা হলেন- মা'দরাসায়ে মা'রকাজুস সুন্নাহর মু'হতামিম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান (৪৫), তার দুই ছেলে হাফেজ মাহবুবুর রহমান আসিফ (১৫), মাহমুদুর রহমান (১২), ভা'গ্নে রেজাউল করিম (১৫), ভাতিজা জোবায়ের (২০), জোনায়েদ (১৭), ভাতিজি লুবনা (১৩), জুলফা (৭), চরখরিচা গ্রামের কৃষক ইসা মিয়া (৪০), তার ছেলে শামীম (১০), কোনাপাড়া গ্রামের মা'দরাসা শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম (৩৮), হা'মিদুল (৩৫), সাইফুল ইসলাম রতন (৩০), জহিরুল ইসলাম (৩৫), চরগোবিন্দপুরের তালেব মেম্বারের ছেলে শহিদুল (৪০), গৌরীপুর উপজে'লার ধোপাজা'ঙ্গা'লিয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শফিকুর রহমান (৪০) ও তার ছেলে সামাআন (১০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ঈদের পরপরই আনন্দ ভ্রমণে যায় ময়মনসিংহ সদরের মা'দরাসায়ে মা'রকাজুস সুন্নাহসহ স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ'ভিভাবকরা। সদরের চরভবানীপুর এলাকার সেই রীতি জারি ছিল করো’নাকালেও। মা'দরাসা'প্রধান মাওলানা মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে কোণাপাড়া গ্রামের মা'দরাসা শিক্ষকদের মাধ্যমে নেত্রকোনা জে'লার ম'দন উপজে'লার ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত উচিতপুর হাওরের উদ্দেশ্যে বের হয় ৪৮ জনের একটি দল। এদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। উচিতপুর পৌঁছে সেখানকার নৌঘাট ছেড়ে যাওয়ার কিছু পরই হাওরে ডুবে যায় তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি। খবর পেয়ে উ'দ্ধার তৎপরতা শুরু করে ফা’য়ার সার্ভিস। একে একে উ'দ্ধার হয় ১৭টি মর'দে'হ।

জানা যায়, অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় এবং প্রচণ্ড ঢেউ ও বাতাসের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে নি'হত ১৭ জনের মধ্যে ১৫ জনই ময়মনসিংহ সদর উপজে'লার চরসিরতা ইউনিয়নের ভবানীপুর কোনাপাড়া, খরিচা ও গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। অ’পর দুইজন গৌরীপুর উপজে'লার বাসিন্দা।

চরসিরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জানান, খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মর'দে'হ গ্রহণ করেন। পরে সব মর'দে'হ রাতের মধ্যেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

নি'হত লুবনা ও জুলফার মামাতো ভাই ইমন বলেন, ফুটফুটে দুটি মেয়ে। সারাক্ষণ আরবি পড়ত। মুখটা চোখের সামনে সবসময় ভেসে ওঠে। এমন মৃ'ত্যু কখনও কল্পনাও করিনি। পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো ভাষা নেই।

ময়মনসিংহ সদর উপজে'লা নির্বাহী কর্মক'র্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, নি'হত ১৭ জন ময়মনসিংহের বাসিন্দা। নি'হতদের মধ্যে সদর উপজে'লার ১৫ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার করে টাকা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া গৌরীপুরের দুজনের পরিবারকে উপজে'লা প্রশাসন ২০ হাজার করে টাকা দিয়েছে।

এদিকে নৌকাডুবির ঘটনায় রাকিব (২০) নামে নিখোঁজ একজনের মর'দে'হ পাওয়া গেছে। তার বাড়িও কোণাপাড়া গ্রামে। দুপুর পর্যন্তও তার মর'দে'হ বাড়িতে এসে পৌঁছায়নি।

Facebook Comments

Related Articles

Back to top button